সর্বশেষ

সারাদেশ

বর্ষায় যৌবন ফিরেছে ব্রহ্মপুত্রে, আড়ালে খনন প্রকল্পের হরিলুট

আওলাদ হোসেন রুবেল, ময়মনসিংহ
আওলাদ হোসেন রুবেল, ময়মনসিংহ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বর্ষা মৌসুমের আগমনে ময়মনসিংহের প্রাণ ব্রহ্মপুত্র নদ ফিরে পেয়েছে তার হারানো রূপ। উত্তাল স্রোত আর নৌকার আনাগোনায় মুখরিত নদের তীর মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, এর আড়ালে রয়ে গেছে খনন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ।

শুষ্ক মৌসুমে যে ব্রহ্মপুত্র নদ মরুভূমির মতো ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়, বর্ষা আসতেই তার রূপ বদলে গেছে। এখন নদের বুক জুড়ে থইথই করছে পানি, চলছে পালতোলা নৌকা এবং জেলেদের মাছ ধরার ব্যস্ততা। ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল পার্ক সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে এখন প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। তবে নদের এই সাময়িক রূপের পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি অবহেলা ও দুর্নীতির এক করুণ চিত্র।

নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২৭ কিলোমিটার খনন প্রকল্প শুরু হয়েছিল। সাত বছরে দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও বাজেট বাড়লেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। পরিবেশবাদীদের মতে, ব্রহ্মপুত্র নদ খননের নামে মূলত বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলেছে। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে নদের বালু বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বেড়াতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাইজু ইসলাম জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদে পানি না থাকায় এটিকে খালের মতো দেখায়। তবে এখন পানি বাড়ায় বেশ মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বাসিন্দা প্রবাল দাস জানান, শৈশবের পরিষ্কার পানির ব্রহ্মপুত্র এখন আর নেই, বর্তমানে পানিতে অতিরিক্ত বালু ও ময়লা থাকায় ব্যবহার করা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে বর্ষায় পানি আসায় মাঝিদের আয়-রোজগার বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় মাঝি হান্নান মিয়া।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলনের সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) ড. মো: শাহাব উদ্দীন বলেন, খননের নামে ময়মনসিংহের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের নদীগুলো রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে তদারকি চলছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের খনন কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবেন।

২৭৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০