শৈলকুপায় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শেখপাড়া-লাঙ্গলবাঁধ সড়কের বাক সরলীকরণ প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এ প্রকল্পে নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, সব নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন শেখপাড়া-লাঙ্গলবাঁধ সড়কের বাক সরলীকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য শৈলকুপার পাঠানপাড়া, পাইকপাড়া, কুশবাড়িয়াসহ কয়েকটি এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ফাজিলপুর মহিলা কলেজের পাশে একটি পতিত জায়গায় সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন সামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণসামগ্রী ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সড়ক বিভাগের প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী বেড ও এজিং তৈরিতে প্রথম শ্রেণির ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে ‘টপ১০’ নামের নিম্নমানের এবং দুই থেকে তিন নম্বর মানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজর এড়িয়ে প্রকাশ্যে নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রভাবশালী হওয়ায় কিংবা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে যাচাই করারও দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, ‘মেসার্স মইনুদ্দিন বাশী’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। জমি অধিগ্রহণের ব্যয় ছাড়াও এ কাজে বরাদ্দ রয়েছে ১২ কোটি টাকা। আগামী জুন মাসের আগেই কাজটি শেষ করা হবে।
তুহিন আল মামুন বলেন, প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। সব নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে