ইসস যদি ওই সময়ে লোডশেডিং হতো! প্রাণে বেঁচে যেতো নববর
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ ৭:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফিরেছিলেন নববধূকে নিয়ে। পরদিনই ছিল বৌভাত। অতিথি আপ্যায়ন আর প্যান্ডেল সাজানোর ব্যস্ততায় মুখর ছিল বাড়ি। কিন্তু সেই আনন্দের রাতেই স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন নববর আহমেদ আনাস বাপ্পি (২২)। মুহূর্তেই উৎসবের বাড়ি পরিণত হলো শোকের বাড়িতে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের (১৮) সঙ্গে আনাসের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি। শুক্রবার ছিল তাঁদের বৌভাতের আয়োজন।
নববধূকে ঘরে তোলার পর থেকেই বাড়িতে চলছিল বৌভাতের প্রস্তুতি। অতিথিদের খাবারের ব্যবস্থা, প্যান্ডেল তৈরিসহ নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাত গভীর হলেও ব্যস্ততার কমতি ছিল না। আনাসও সবকিছু তদারকি করছিলেন।
এরই মধ্যে রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে যান তিনি। অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নববর। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও ছিল বিয়ের আনন্দ, নববধূকে ঘিরে ছিল স্বপ্ন আর বৌভাতের প্রস্তুতি—সেই বাড়িতেই মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে কান্নার রোল। বিয়ের সাজসজ্জা আর অতিথি আপ্যায়নের আয়োজনের মাঝেই স্বজনদের বুকভরা আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে।
নববধূকে ঘরে তোলার রাতেই নববরের এমন বিদায় যেন বিয়ের আনন্দের ওপর নেমে আসা এক নির্মম নিয়তি—যেখানে বৌভাতের হাসির বদলে উঠেছে শোকের কান্না।
১২৫ বার পড়া হয়েছে