সর্বশেষ

সারাদেশ

ব্রহ্মপুত্রে ৮৫০ কোটির স্থায়ী বাঁধের দাবিতে কুড়িগ্রামে চরের মানুষের তীব্র আকুতি

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ ৩:২৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন রোধে সাহেবের আলগা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে চরাঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষ। রোববার বিকেলে রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের পাইকান্টারী বল্লভ পাড়া এলাকায় ‘চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। চরের বাসিন্দারা নদীভাঙন রোধে সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

সমাবেশে চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাস থেকে ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদীভাঙন ও বন্যার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হচ্ছে। শিক্ষার নাজুক পরিস্থিতির কারণে চরাঞ্চলে বাল্যবিয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যার ফলে প্রতিবন্ধী শিশুর জন্মহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে সমাবেশে জানানো হয়, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্রের বন্যা ও ভাঙনে প্রায় ৫ হাজার পরিবার চরাঞ্চল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। এছাড়া বিগত পাঁচ বছরে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে প্রায় ৬ হাজার পরিবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বড় শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, কুড়িগ্রামের ৪ থেকে ৫ শতাধিক চরের মানুষ প্রতিনিয়ত বন্যার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। নদীভাঙনে জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন, অথচ সরকারিভাবে কোনো ক্ষতিপূরণ মিলছে না। তিনি চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত সাড়ে এক কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি পৃথক ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের জোর দাবি জানান।

এদিকে নদীভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চলতি মৌসুমে ৪২টি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ লক্ষাধিক বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। নতুন আক্রান্ত পয়েন্টগুলোতেও বরাদ্দ পাওয়া মাত্র কাজ শুরু হবে। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও জানান, নদীভাঙন রোধে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং ইতিমধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন