ক্ষমতা বলয়ের বাইরে পড়ে থাকা মানুষের প্রশ্ন
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
একই পরিবারের একাধিক সদস্যের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে উপস্থিতি নতুন করে সামনে এনেছে যোগ্যতা, সুযোগ ও ক্ষমতার সম্পর্কের প্রশ্ন। হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দেবাশীষ রায় চৌধুরীর শপথ এবং তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক পরিসরে একাধিক সদস্যের অবস্থানকে ঘিরে জনপরিসরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার বাইরে রয়েছে ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থাকা মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সমঅধিকারের আকাঙ্ক্ষা।
একটি নন্দিত পরিবারের তিনজন সদস্যের সংসদে উপস্থিতি। সেই একই পরিবারের আরেক সদস্যের হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হওয়া; নিঃসন্দেহে আলোচনার মতো টাটকা বাস্তবতা।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে দেবাশীষ রায় চৌধুরী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর আগে তাঁর মেয়ে নিপুণ রায় চৌধুরী সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচিত হন। মন্ত্রীর বেয়াই জনাব গয়েশ্বর চন্দ্রও একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংসদ সদস্য। এসব তথ্যই এখন জনপরিসরে পরিবার, যোগ্যতা ও সুযোগের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
কিন্তু আমরা কী ভেবে দেখেছি, রাষ্ট্রের সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বঞ্চিত মানুষের চোখে এই দৃশ্যটি কেমন?
যে তরুণ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যে পরিবার মামলা- মোকদ্দমার ভারে নিঃস্ব হয়েছে, যে মানুষ শহর বদল করে অন্য শহরে গিয়ে রিকশা চালিয়ে সন্তানের মুখে অন্ন যুগিয়েছে; তাদের দীর্ঘশ্বাস কি ক্ষমতাবানদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়তে পৌঁছায়?
জুলাইয়ের সহিংসতায় আহত, পঙ্গু কিংবা প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলো যখন টিকে থাকা লড়াইয়ে প্রতিদিন রক্ত-ঘাম ঝরায়; তাদের জিজ্ঞাসা, রাষ্ট্রীয় সুযোগের দরজা কী সবার জন্য সমান?
প্রশ্নটি কোনো পরিবারের বিরুদ্ধে নয়। প্রশ্নটি রাষ্ট্রের কাছে; যোগ্যতা, ত্যাগ ও নাগরিক অধিকারের মাপকাঠি কি সবার জন্য একই হবে?
মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, ক্ষমতা যদি সেবার অঙ্গীকার হয়। তাহলে বঞ্চিত মানুষের কান্না ও হাহাকারের কথা শুনতে হবে ক্ষমতাসীনদের। আর প্রতিষ্ঠা করতে হবে সাম্য, দিতে হবে সমাধান।
১২৩ বার পড়া হয়েছে