সর্বশেষ

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় মামলার বাদী ৬৫ বছরের বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ায় নিজের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলার বাদী ৬৫ বছর বয়সী নুর জাহান বেগমকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। রোববার সকালে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে পরিবার কোনো তথ্য পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে।

কুষ্টিয়ায় মামলার বাদী এক বৃদ্ধা নারীকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের বাড়ি থেকে ৬৫ বছর বয়সী নুর জাহান বেগমকে পুলিশ নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নুর জাহান বেগমের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয় দিন আগে, ২১ সেপ্টেম্বর, কুষ্টিয়া আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কৃষকদলের ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়া হয়েছে।

নুর জাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগ, মামলা করার পর থেকে বিভিন্নভাবে তাঁর মাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বিএনপির নেতারাও তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিল্পী বলেন, তাঁর মায়ের করা মামলার পর রোববার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা ও পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের একটি যৌথ দল তাঁদের বাড়িতে যায়। তখন তাঁর মা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

শিল্পীর ভাষ্য, পুলিশের সদস্যরা তাঁর মাকে বলেন, ‘আপনি আদালতে গুদাম পোড়ানোর মামলা করেছেন। মামলার বাদী আপনি। এ কারণে ওসি সাহেব আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। আমাদের সঙ্গে চলুন।’ এরপর কয়েকজন নারী পুলিশ নুর জাহানকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।

শিল্পী বলেন, ‘এরপর কোথায় তাঁকে রাখা হয়েছে, তা আমরা জানি না। বাড়িতে ১৫ বছর বয়সী আমার অটিজম এক কন্যা রয়েছে। মা ও আমরা তিনজন বাড়িতে ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, তাঁদের কৃষকদলের স্থানীয় কার্যালয়ে নিজেরাই ভাঙচুর করে পরে এলাকার আরও মানুষের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন। এসব ঘটনায় বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনও জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নুর জাহানের ছেলে রুহুল আমিন ফোনে বলেন, তিনি চাকরি করেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁকে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রুহুল আমিন বলেন, ‘তারা আমার বাড়ি ও গুদামে আগুন দিয়েছে। আমি পলাতক। পুলিশ আমার বৃদ্ধ মাকে ধরে নিয়ে গেছে। তাঁর কোনো খবর পাচ্ছি না।’

নুর জাহান বেগমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি, বাইরে আছি। একটি মার্ডার নিয়ে অভিযানে আছি। থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০