দ্রুত যোগদানের দাবিতে শাহবাগে প্রাথমিক শিক্ষকদের অবস্থান
রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ ৮:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত যোগদান ও পদায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। রোববার বেলা ১১টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে ওই এলাকার এক পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই যোগদানের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। তাদের দাবি, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদ্যালয়ে পদায়নের নির্দিষ্ট সময় জানিয়ে লিখিত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের নেতা দেবব্রত সরকার বলেন, দীর্ঘ ছয় মাস আগে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। বারবার সময় পরিবর্তনের কারণে প্রার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অনেকেই আগের চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় আর্থিক ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
তিনি বলেন, যোগদান ও পদায়নের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে সরকারি আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে। এর আগে শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৯ অক্টোবর যোগদানের কথা জানানো হয়েছিল। পরে তা পরিবর্তন করে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।
তবে আন্দোলনরত প্রার্থীরা এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন। তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এত দীর্ঘ অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দিতে হবে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ৬১ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যালয়ের জন্য ১০ হাজার ২১৯টি পদে এবং দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য ৪ হাজার ১৬৬টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে নিয়োগের জন্য গত ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন প্রার্থী। পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১০ মে সুপারিশপ্রাপ্তদের আগের কার্যক্রম যাচাইয়ের জন্য পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর থেকেই যোগদান নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন প্রার্থীরা।
১৩১ বার পড়া হয়েছে