বাউফলে পরকীয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতাকে গণপিটুনি
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ৭:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে ফারুক হোসেন প্যাদা নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেতার দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত ফারুক হোসেন দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে।
আহত ফারুক হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির কয়েকজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা করা হয়েছে এবং তার কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে তার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। এই নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ জুলাই পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি শহিদুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন এক নারী। জেলাজুড়ে পরপর এমন দুটি ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে