নেত্রকোনায় বিয়েবাড়িতে হাজির প্রেমিকা, লোকলজ্জায় বরের বাবার আত্মহত্যা
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ৫:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিয়ের আসরে হঠাৎ বরের প্রেমিকা এসে হাজির হওয়ায় পণ্ড হয়ে গেছে বিয়ে। এই ঘটনার জেরে লোকলজ্জা ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বরের বাবা সুরুজ মিয়া। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে গত বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। যথাসময়ে কনের বাড়িতে বরযাত্রীও পৌঁছায়। কিন্তু হঠাৎ করেই বরের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন এক নারী। নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করে বিয়ের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগকারী ওই নারীর নাম জান্নাতী খাতুন। তিনি কুড়িগ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক। তিনি দাবি করেন, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। জান্নাতীর সাথে তাঁর মামাতো বোন শাহিনুর বেগমও বিয়েবাড়িতে আসেন।
এই আকস্মিক ঘটনায় দুই পরিবারের মাঝে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে বিয়েটি ভেঙে যায়। নিজের ছেলের এমন কাণ্ডে সামাজিকভাবে চরম অপদস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন সুরুজ মিয়া। লোকলজ্জার ভয়ে তিনি ওই রাতেই ঘরের পাশে একটি আমগাছের ডালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন।
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরুজ মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেমিকা জান্নাতী খাতুন ও তাঁর বোনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
১১২ বার পড়া হয়েছে