অধ্যাপক নন, তবু ‘অধ্যাপক’ পরিচয়ে প্রচার
জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মূল কাজই হলো মানুষকে ধর্মের ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করা। বেহেশতের লোভ ও দোযখের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানদের ভুল পথে পরিচালিত করাই এদের রাজনীতির মূল মন্ত্র। আর এই রাজনীতির নেতারা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিচয় এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেন তারা সমাজের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিত্ব।
কুষ্টিয়া পৌরসভার আসন্ন মেয়র নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার। তিনি কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল। কিন্তু তার রাজনৈতিক প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজের ফেস্টুন, ব্যানার ও বিভিন্ন প্রচার সামগ্রীতে “অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার” লিখে প্রচার করছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, তিনি কোনো অধ্যাপক নন।
তিনি ড. মুহম্মদ ফজলুল হক গার্লস ডিগ্রি কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপক (Assistant Professor)। বাংলাদেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষকদের জন্য সর্বোচ্চ পদ হলো সহযোগী অধ্যাপক, আর অধ্যাপক পদ সাধারণত এমপিওভুক্ত কলেজে স্বীকৃত নয়। তার কলেজের ওয়েবসাইটেও তাকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবেই দেখানো হয়েছে। তাহলে তিনি কীভাবে নিজেকে “অধ্যাপক” বলে প্রচার করছেন?
জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহিলা কলেজে চাকরিরত পুরুষ কর্মীর রোকনশীপ (সদস্যপদ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার গার্লস কলেজে চাকরির কারণে তার রোকনশীপ বাতিল হয় এবং জেলা সেক্রেটারি পদ থেকেও অপসারিত হন। তিনি যদি পুরুষ কলেজে চাকরি করতেন, তাহলে তার রোকনশীপ বাতিল হতো না এবং সেক্রেটারি পদেও থাকতে পারতেন। জামায়াতের গঠনতন্ত্রের এই কঠোর বিধানের কারণেই তাকে এই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাকে জামায়াত পৌর মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল তার রোকনশীপ বাতিল হওয়ার আগেই। অর্থাৎ, দল তাকে আগেই নমিনেশন দিয়েছিল, পরে গার্লস কলেজে চাকরির কারণে তার রোকনশীপ বাতিল হয় এবং সেক্রেটারি পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।
এখন তিনি সরাসরি “অধ্যাপক” লিখে জনগণের কাছে প্রচার করছেন। কেউ যদি তাকে অধ্যাপক না বলে, তাহলে তার পক্ষে নানা রকম যুক্তি থাকে যে তিনি আসলে অধ্যাপকই। এটি কি প্রতারণা নয়? সাধারণ মানুষ, যারা শিক্ষা ব্যবস্থার জটিলতা বুঝেন না, তারা মনে করবেন তিনি সত্যিই একজন অধ্যাপক। আর এই ভুল ধারণা তৈরি করেই তিনি জনগণের কাছে নিজেকে যোগ্য ও শিক্ষিত হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
একজন ধর্মীয় দলের নেতা, যিনি ধর্মের নামে নৈতিকতা ও সততার দাবি করেন, তার পক্ষে এমন মিথ্যা প্রচার করা কতটা নৈতিক? ইসলামে সততা ও আমানতদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ। কুরআন ও হাদিসে মিথ্যাচার ও ভান করার নিন্দা করা হয়েছে। তাহলে কীভাবে একজন জামায়াত নেতা জনগণকে ধর্মের ভয় দেখিয়ে ভোট চাইবেন, আর নিজে মিথ্যা প্রচার করবেন?
এটি শুধু ব্যক্তিগত মিথ্যাচার নয়, এটি পুরো ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের নীতির প্রতিফলন। এদের কাজই মানুষকে ধোঁকা দেওয়া, ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা। সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দারের এই প্রচারণা প্রমাণ করে, জামায়াতের মতো দলগুলো কীভাবে সাধারণ মানুষকে ধর্মের নামে ঠকাচ্ছে।
জনগণের উচিত সতর্ক থাকা এবং এমন নেতাদের প্রতারণার ফাঁদে না পড়া। সত্যতা ও নৈতিকতা ছাড়া কোনো রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
১১৬ বার পড়া হয়েছে