সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দিয়েছে দুটি সংগঠন। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ আজাদি পার্টি। অভিযোগগুলোতে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, হত্যা ও কথিত গণহত্যার ঘটনায় ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ আজাদি পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম। রোববার পৃথকভাবে দুটি অভিযোগ জমা দেয় সংগঠন দুটি।
বাংলাদেশ আজাদি পার্টির পক্ষ থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে যেসব হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, সেসব বিষয়ে সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি কোনো প্রতিবাদ জানাননি। তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় তাঁদের নীরব সমর্থন ছিল।
আজাদি পার্টির প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন এবং আয়নাঘরসহ বিভিন্ন ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। এসব ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা এবং তৎকালীন সরকারের প্রতি তাঁদের অবস্থান তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম শুধু মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস অভিযোগে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের কারণে তাঁকে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরদিন তাঁকে বাংলামোটর এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে মো. সাহাবুদ্দিনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র–জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা ও গুমের ঘটনায় তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণ–অভ্যুত্থানসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় তাঁর আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১১৯ বার পড়া হয়েছে