রংপুরে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে চরম নৈরাজ্য: ইচ্ছেমতো চলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরে বিভাগীয় ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইচ্ছেমতো অফিস করার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অফিসে দেখা মিলছে না দায়িত্বশীলদের, যার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতা ও খামারিরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দায়িত্বহীনতার এই চরম নৈরাজ্য খতিয়ে দেখে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সরেজমিনে রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত বিভাগীয় ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় অনিয়মের এক ভিন্ন চিত্র। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস খোলার কথা থাকলেও, কার্যালয়জুড়ে ছিল সুনসান নীরবতা। নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে সকাল সোয়া ৯টায় হন্তদন্ত হয়ে অফিসে আসেন পিয়ন। এরপর সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বিলম্বিতভাবে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা।
অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই সরকার প্রায়শই বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে আসেন। সরেজমিনে পরিদর্শনের দিন সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তার দেখা পাওয়া যায়নি। এছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তারাও সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের পর হেলেদুলে অফিসে প্রবেশ করতে শুরু করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন তুললে কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন।
পাশের ভবনে অবস্থিত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের চিত্রও প্রায় একই। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হুদা সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে গাড়িতে করে কার্যালয়ে পৌঁছান। দেরিতে আসার কারণ হিসেবে তিনি পারিবারিক অসুস্থতার অজুহাত দেন। তবে ক্যামেরার উপস্থিতি দেখে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তড়িঘড়ি করে সকাল পৌনে ১০টার দিকে অফিসে প্রবেশ করেন।
অফিসের এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ খামারি ও সেবাগ্রহীতারা। নগরীর আলমনগর থেকে আসা খামারি মোশাররফ হোসেন জানান, তার তিনটি গরুর মধ্যে দুটি গুরুতর অসুস্থ। ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে সকাল পৌনে ৯টায় আসলেও এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি তিনি। খামারিদের দাবি, জরুরি সেবা প্রদানকারী এই সরকারি প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি।
১৩০ বার পড়া হয়েছে