ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জামায়াত নেতার পদত্যাগ, মহিপুরে তোলপাড়
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দলীয় পদ ও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় এক জামায়াত নেতা। মহিপুর সদর ইউনিয়নের নিজামপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজীর এই ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জামায়াত নেতা খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতা স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার এই স্ট্যাটাস দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তোলে।
ফেসবুক বিবৃতিতে খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী উল্লেখ করেন, তিনি সবসময় ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু কেন্দ্রীয় ও উচ্চপর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনৈতিক অভিযোগ তার ব্যক্তিগত আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার কর্ম ও চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, কেবল নামের সঙ্গে 'ইসলাম' শব্দ যুক্ত থাকলেই তা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না।
এদিকে খলিলুর রহমানের এমন সিদ্ধান্তের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মহিপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াত। ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে খলিলুর রহমান দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিছুদিন সক্রিয় ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়ে দল কোনো মধ্যস্থতা না করায় তিনি ধীরে ধীরে সংগঠন থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন।
দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী খলিলুর রহমান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বা লিখিত কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি বলে দাবি করেছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্ব। বিষয়টি নিয়ে দলের দায়িত্বশীল নেতারা বসে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
১০৪ বার পড়া হয়েছে