মেয়েটি নিজেই এমপিকে সেবা করতে চেয়েছিল: জামায়াত নেতা মুহাদ্দিস
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিতর্কিত ভিডিও ও বিয়ে কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনাঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট মেয়েটি নিজেই ওই এমপিকে সেবা করার আবদার করেছিল, তবে অনৈতিকতার প্রশ্নে দল কোনো আপস না করায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর সংসদ সদস্য পদও বাতিল হচ্ছে বলে জানান এই জামায়াত নেতা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের গোটাঘাটা মসজিদে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এসব তথ্য জানান। স্থানীয় আলেম-উলামা ও সাধারণ জনগণের ব্যানারে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এমপি গাজী নজরুলের ঘটনাটিকে একটি বড় ধরনের নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত এমপির পরিবারের সদস্যদের সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সে সময় জানা যায়, মেয়েটি নিজেই অন্য কোথাও বিয়ে না করে আজীবন এমপি সাহেবের সেবা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। মেয়ের এই অনড় দাবির কারণেই তাঁর পরিবার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করতে বাধ্য হয়।
জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক স্পষ্ট করে বলেন, এই কর্মকাণ্ডটি অসামাজিক ও অনৈতিক ছিল। জামায়াতে ইসলামী কখনোই কোনো অনৈতিক বা অসামাজিক কাজকে প্রশ্রয় দেয় না। সে কারণেই দল থেকে তাঁকে অবিলম্বে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে তাঁর সংসদ সদস্য পদও বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে তিনি মসজিদের ইমামের উদাহরণ টেনে বলেন, একজন সাধারণ মানুষের ভুলের চেয়ে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভুলের মাত্রা অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যে ভুল ক্ষমা করা সম্ভব, সমাজের উঁচুতলার বা আদর্শিক নেতার ক্ষেত্রে তা মেনে নেওয়া যায় না। এ কারণেই ওনার বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
১৪০ বার পড়া হয়েছে