পদ্মা সেতু ও রেল যোগাযোগ চালুর পরও পিছিয়ে আছে মোংলা বন্দর
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পদ্মা সেতু ও রেল যোগাযোগ চালুর পরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দর। মূলত পশুর চ্যানেলের তীব্র নাব্যতা সংকট এবং কাস্টমসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আমদানিকারকরা এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ইতিমধ্যে বড় ধরনের ড্রেজিং প্রকল্প ও ডিজিটাল ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, পশুর নদী ও মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে নিয়মিত পলি জমার কারণে বড় ড্রাফটের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাথে প্রায় ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার একটি ড্রেজিং প্রকল্প চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হয়রানি ও শুল্কায়নের আমলাতান্ত্রিক কড়াকড়ির কারণেও ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। পণ্য ছাড়করণে দীর্ঘসূত্রতার ফলে আমদানিকারকদের বড় অংশই এখন এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে জোয়ারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ৭.৫ থেকে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভেড়ানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এছাড়া কাস্টমস জটিলতা কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে সমন্বয় করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালুর প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বন্দরটিকে আরও গতিশীল করতে ব্যবসায়ীদের ২৪ ঘণ্টা পণ্য খালাসের সুবিধা প্রদানসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে বিশেষ কনটেইনার ট্যারিফ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই যৌথ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বন্দরটি দ্রুতই বিশ্বমানের অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে।
১৮২ বার পড়া হয়েছে