কুমিল্লায় শিশু ঝুমুর হত্যা: ১৯ কার্যদিবসে ঘাতক মফুর মৃত্যুদণ্ড
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লায় নয় বছরের শিশু তানজিম সুলতানা ঝুমুরকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলায় আসামি মফিজুল ইসলাম মফুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র ১৯ কার্যদিবসে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক এই রায় দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের প্রবাসী জাকির হোসেনের একমাত্র মেয়ে তানজিম সুলতানা ঝুমুর (৯) স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। সে স্থানীয় সোনালী শিশু বিদ্যানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নির্ধারিত সময়ে ঝুমুর বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে খেয়াইশ ঠাকুরবাড়ি এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ঝুমুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে জানা যায়, শিশুটিকে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘটনার পর পরই আসামি মফিজুল ইসলাম মফুকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। এ ঘটনায় ঘটনার পরদিন নিহত শিশুটির মা রাজিয়া আক্তার বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের ৩ দিনের মাথায় চাঁদপুর থেকে র্যাবের একটি অভিযান দল মফুকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি মফু শিশু ঝুমুরকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বদিউল আলম সুজন বলেন:
"মাত্র ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত আসামি মফুকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে দেওয়া এই রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"
১২৩ বার পড়া হয়েছে