হালুয়াঘাটে বিএনপির প্রতিবাদ, জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগ এবং বিরোধী দলগুলোর কথিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সমাবেশ ও মিছিল করেছে উত্তর জেলা বিএনপি। সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বুধবার হালুয়াঘাট পৌর শহরের উত্তর বাজার ধান মহালে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। প্রধান বক্তা ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আওয়ামী লীগের নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জামায়াত ও এনসিপির কোনো বক্তব্য বা প্রতিবাদ কর্মসূচি নেই কেন—এ প্রশ্নের জবাব জনগণের কাছে বিরোধী দলগুলোর দেওয়া উচিত। এ ধরনের নীরবতা জনমনে সন্দেহ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে দেশের শান্তি, জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দলের নীরব থাকার সুযোগ নেই। যারা নিজেদের বিরোধী শক্তি হিসেবে দাবি করে, তাদেরও সন্ত্রাস, নাশকতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কথিত অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিএনপি যখন রাজপথে প্রতিবাদ করছে, তখন অন্য বিরোধী দলগুলোর নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। নাশকতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কী, জনগণ তা জানতে চায়।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে।
জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে এক দফার হুমকি, বিভিন্ন কর্মসূচি ও লাগামহীন বক্তব্যের ফলে গণ-অভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এতে নাশকতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিরোধিতা করার অধিকার সবার আছে। তবে বিরোধিতার নামে এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী তৎপরতা বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। যে দলই নাশকতা করবে, তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে এবং যে পক্ষই সহিংসতার সুযোগ তৈরি করবে, তাকেও রাজনৈতিকভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ হত্যা ও লুটপাট করে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের আর ফিরে আসার সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপা, আপা কইয়েন না, আপা ফিরে আসবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একবার বিপদে ফেলে তাদের নেত্রী পালিয়ে গেছেন এবং এখন আবার তাঁদের নাশকতার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
জনগণকে আওয়ামী লীগের নাশকতার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, নাশকতাকারীদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো ষড়যন্ত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের গণমুখী কার্যক্রম নস্যাৎ করতে পারবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্যসচিব আনিসুর রহমান মানিকসহ স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি সমাবেশস্থল থেকে বের হয়ে হালুয়াঘাট পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতি সৌধে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ইয়াসির খান চৌধুরী, অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা অংশ নেন।
১০৯ বার পড়া হয়েছে