দৌলতপুরে পদ্মার তীব্র ভাঙন: বিলীন শত একর ফসলি জমি, দিশেহারা কৃষক
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ৯:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়ার সাথে সাথে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। গত কয়েক সপ্তাহের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত একর ফসলি জমি, যার ফলে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে সোচ্চার পদ্মাপাড়ের মানুষ।
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা, মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়ার, কোলদিয়ার, ফয়জুল্লাহপুর ও হাটখোলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ থেকে ২০ দিনে নদীগর্ভে চলে গেছে কয়েক শ কৃষকের প্রায় শতাধিক একর আবাদি জমি। খেতের উঠতি ফসল ও পাটখেত বিলীন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, জেলাটিতে সম্প্রতি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং তা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভাঙন পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। তবে কারিগরি সমস্যার কারণে আপাতত পানি পরিমাপের সরাসরি কাজ বন্ধ রয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছরই নদীভাঙনে বিপুল পরিমাণ জমি হারালেও স্থায়ী নদীশাসনের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা অপর্যাপ্ত বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। তারা অতি দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা জানিয়েছেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সংসদে কথা বলেছেন। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে সময় লাগলেও জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভাঙনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে