পায়রা বন্দরে ফের সীমানা দেয়াল ধস, চরম ঝুঁকিতে ৩ হাজার ফুট গাইড ওয়াল
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্র বন্দরের আবাসিক এলাকার ১০০ ফুট দীর্ঘ দুটি সীমানা দেয়াল ফের ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে চরম অবহেলা ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এই বারবার ধসের ঘটনা ঘটছে। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে দফায় দফায় দেয়াল ধসে পড়ায় পুরো আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা এখন বড়সড় হুমকিতে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় পায়রা বন্দরের আবাসিক এলাকার উত্তর পাশের ছয়আনি খালের পাশে অবস্থিত সীমানা দেয়াল দুটি হঠাৎ ধসে পড়ে। গত তিন বছরের ব্যবধানে একই স্থানে একাধিকবার দেয়াল ধস ও হেলে পড়ার ঘটনা ঘটল। বর্তমানে খালের পাড়ে থাকা প্রায় তিন হাজার ফুট দীর্ঘ গাইড ওয়ালটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ওই এলাকার ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সীমানা দেয়াল খালের দিকে হেলে পড়েছিল। পরবর্তীতে একই বছরের জুন মাসে আরও একটি দেয়াল ধসে যায় এবং তিনটি দেয়াল হেলে পড়ে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবিএম ওয়াটার কোম্পানি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ৩ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের সীমানা প্রাচীরটি নির্মাণ করেছিল।
এলাকাবাসীর দাবি, বন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে অপরিকল্পিতভাবে কাজ সম্পন্ন করেছে। কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে beauties বলেই সামান্য বৃষ্টিতে বারবার দেয়াল ধসে পড়ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে পায়রা সমুদ্র বন্দরের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. আজিজুর রহমান জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রকৌশল বিভাগের নজরে এসেছে এবং তারা এটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। অতিবৃষ্টির কারণে দেয়ালের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্ষা কমলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত এটি সংস্কার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
১২৪ বার পড়া হয়েছে