ফরিদপুরে ভুল চিকিৎসায় কলেজছাত্রীর মৃত্যু: তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে বেসরকারি হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর ভুল চিকিৎসায় আয়েশা আফরিন নামের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা খতিয়ে দেখে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নিহত আয়েশা আফরিন জেলার সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ জুলাই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের তীব্র ব্যথা নিয়ে তাকে ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার আল-জারা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রোগীর স্বজনদের দাবি, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসান ওই দিন রাতে আয়েশার অস্ত্রোপচার করেন। অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে অন্য একটি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর উত্তেজিত সহপাঠি ও স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ্ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজাকে সভাপতি করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যসচিব হয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আল আমিন। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডা. নূপুর পাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সন্দীপন গাইন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ্ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা জানান, অফিস আদেশ হাতে পেয়েছেন এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের কাজ শুরু করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠু প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মেয়ের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়া মা আলেয়া বেগম বলেন, আমার সুস্থ মেয়েকে অপারেশনের জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু ডাক্তারের দায়িত্বহীনতায় আজ তাকে হারাতে হলো। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের সাথে যোগাযোগ করা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, রোগীর স্বজনদের অনুরোধেই তিনি তড়িঘড়ি করে অপারেশনটি করেছিলেন। অন্যদিকে আল-জারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
১৫৭ বার পড়া হয়েছে