ইংল্যান্ড–ফ্রান্সের ১০ গোলের রোমাঞ্চ, তৃতীয় হয়ে ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই আনুষ্ঠানিকতা মনে করেছিলেন। কিন্তু মাঠে নেমে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ১০ গোলের দুর্দান্ত এক লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬–৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ সাধারণত খুব বেশি আলোচনায় থাকে না। তবে এবার ব্যতিক্রমী এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই দল মিলে করেছে ১০ গোল, যা এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
৬–৪ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই ইংলিশদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই তারা ৪–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ডেকলান রাইস গোলের সূচনা করেন। এরপর ব্যবধান বাড়ান এজরি কনসা। বিরতির আগে জোড়া গোল করে দলের বড় ব্যবধান নিশ্চিত করেন বুকায়ো সাকা।
দ্বিতীয়ার্ধেও নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। যোগ করা সময়ে বদলি হিসেবে নেমে ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ গোলটি করেন জুড বেলিংহাম।
চার গোল পিছিয়ে পড়লেও সহজে হার মানেনি ফ্রান্স। বিরতির পর ২১ মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় তারা। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে দুটি এবং ব্র্যাডলি বারকোলা একটি গোল করেন।
এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাঁর ২২তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন। একই সঙ্গে চলতি আসরে ১০ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
ম্যাচের শেষদিকে মাইকেল ওলিসে ও উসমান দেম্বেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। যোগ করা সময়ে দেম্বেলে আরেকটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ৬–৪ ব্যবধানের হার এড়াতে পারেনি ফ্রান্স।
এই ম্যাচে দুই দলই বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেয়। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম একাদশে সাতটি এবং ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল আটটি পরিবর্তন আনেন। আক্রমণভাগের ঝলক থাকলেও দুই দলের রক্ষণভাগ ছিল তুলনামূলক দুর্বল, যার ফলেই দেখা যায় গোলবন্যা।
এই জয়ে ব্রোঞ্জ পদকের পাশাপাশি প্রায় ৩৫৫ কোটি টাকা প্রাইজমানি পেয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে চতুর্থ স্থান অর্জন করে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা পেয়েছে ফ্রান্স।
১৪৮ বার পড়া হয়েছে