সর্বশেষ

জাতীয়

হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১:২৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবস আজ, ১৯ জুলাই। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পাঠকের হৃদয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা আজও অটুট।

হুমায়ূন আহমেদ

মৃত্যু নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের ভাবনা ও অনুভূতির প্রতিফলন তাঁর লেখালেখিতে বারবার উঠে এসেছে। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘পৃথিবীতে জ্যোৎস্না থাকবে, টিনের চালে ঝমঝম বৃষ্টি থাকবে, বর্ষায় কদম ফুল ফুটবে, উথালপাথাল দখিনা হাওয়া থাকবে, আর আমি থাকব না, তা-ই কি হয়?’ প্রকৃতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং জীবনবোধ এই কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর মৃত্যু শুধু একজন লেখকের বিদায় নয়, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্যও ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তিনি রেখে গেছেন অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম এবং কোটি পাঠকের ভালোবাসা।

প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে সেখানে ভক্ত, পাঠক, লেখক, নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতিকর্মীরা সমবেত হয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণা ও তাঁর রচনা পাঠে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে। অনেক ভক্ত প্রিয় চরিত্র হিমু ও রূপার সাজে নুহাশপল্লীতে উপস্থিত হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিনজুড়ে তাঁকে স্মরণ করছেন অসংখ্য অনুরাগী।

হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে বড় অবদানগুলোর একটি হলো নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করা। তাঁর নতুন বই প্রকাশ মানেই ছিল পাঠকদের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অমর একুশে বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়। সহজ-সরল ভাষা, প্রাণবন্ত সংলাপ, সূক্ষ্ম রসবোধ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অনন্য গল্প বলার ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে আলাদা অবস্থান এনে দেয়।

দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ঘটনাগুলোকে অসাধারণভাবে তুলে ধরার দক্ষতা ছিল তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর গল্প যেমন পাঠককে হাসিয়েছে, তেমনি আবেগে আপ্লুতও করেছে।

আজও তাঁর বই পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয়। বিভিন্ন প্রকাশকের তথ্য অনুযায়ী, অমর একুশে বইমেলায় এখনো সর্বাধিক বিক্রীত লেখকদের তালিকায় তাঁর নাম শীর্ষস্থানেই থাকে। নতুন পাঠকরাও আগ্রহ নিয়ে পড়ছেন ‘নন্দিত নরকে’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘দেবী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘মধ্যাহ্ন’ এবং ‘জোছনা ও জননীর গল্প’-এর মতো উপন্যাস।

সাহিত্যের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রেও তিনি রেখে গেছেন স্থায়ী ছাপ। ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘আজ রবিবার’ নাটক এবং ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’ ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ চলচ্চিত্র আজও দর্শকের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর বাবা ছিলেন ফয়েজুর রহমান এবং মা আয়েশা ফয়েজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তাঁর সাহিত্যচর্চার সূচনা। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ এবং ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত ‘শঙ্খনীল কারাগার’ তাঁকে পাঠকমহলে শক্তিমান লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতার পর তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা করেন। পরে লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় শিক্ষকতা ছেড়ে দেন।

প্রায় পাঁচ দশকের সাহিত্যজীবনে তিনি উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, চলচ্চিত্র, শিশুতোষ সাহিত্য এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর সৃষ্টি হিমু, মিসির আলী, শুভ, বাকের ভাই ও রূপা বাংলা সাহিত্যের স্মরণীয় চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন নিঃসন্দেহে পাঠকের অকৃত্রিম ভালোবাসা। সময়ের সঙ্গে নতুন লেখকের আবির্ভাব ঘটলেও জনপ্রিয়তা, পাঠকপ্রিয়তা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের বিচারে হুমায়ূন আহমেদ আজও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী কথাশিল্পী।

২০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন