ভারতীয় কম্বলের অবৈধ অনুপ্রবেশে সয়লাব বাজার, বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের সীমান্ত গলিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় কম্বল। রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এসব পণ্য ছড়িয়ে পড়ায় দেশীয় শিল্প হুমকিতে পড়ার পাশাপাশি সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে কুরিয়ার ও কভার্ড ভ্যানে এসব চোরাই পণ্য দেশের সর্বত্র পৌঁছে যাচ্ছে।
দেশের বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা বেডিং মার্কেটগুলোতে এখন বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় কম্বলের জয়জয়কার। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব কম্বলের একটি বড় অংশই কোনো ধরনের বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া বা শুল্ক পরিশোধ ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। সিলেট সীমান্তবর্তী কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলাকে চোরাকারবারিরা এই অবৈধ বাণিজ্যের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
চোরাপথে আসা এসব কম্বল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ছড়িয়ে দিতে অভিনব সব পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা থেকে প্রথমে পর্যটকবাহী দূরপাল্লার গাড়ি, বিভিন্ন নামী-দামী কুরিয়ার সার্ভিস এবং পণ্যবাহী ঢাকা মেট্রো চিহ্নিত কভার্ড ভ্যানে লুকিয়ে এসব কম্বল ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তা চলে যায় বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা ও বড় বড় বেডিং স্টোরের গুদামে।
রাজধানী ঢাকা এবং গাজীপুরের একাধিক বড় বিপণি বিতান সরেজমিনে ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে আমদানির বৈধ কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী স্বীকার করেছেন যে, কম শুল্ক বা সম্পূর্ণ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আনা এই কম্বলগুলো তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে, যা বৈধ আমদানিকারকদের অসম প্রতিযোগিতায় ফেলছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবাধে কর ফাঁকি দিয়ে পণ্য প্রবেশের কারণে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দেশীয় কম্বল প্রস্তুতকারক ও বৈধ আমদানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কাস্টমসের গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে