মাগুরায় জনৈক আমিরুলের মৃত্যুর পর নিরীহদের বাড়িতে হামলা
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬ ৮:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় প্রতিবেশীদের হামলায় আহত আমিরুল মোল্যা (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে হামলা না করে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন অন্তত ১০টি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের সোয়াশতডাঙ্গা গ্রামে আমিরুল মোল্যার মৃত্যুর পর প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা অন্তত ১০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েকটি বাড়ি থেকে গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানায় করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আমিরুল মোল্যার সঙ্গে প্রতিবেশী আবুজার মণ্ডল, তবিবর মণ্ডল ও ফরিদ বিশ্বাসের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবুজার মণ্ডল, তবিবর মণ্ডল, ফরিদ বিশ্বাস, ফিরোজ বিশ্বাস ও মিরাজ বিশ্বাস আমিরুল মোল্যার বাড়িতে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
হামলায় গুরুতর আহত আমিরুল মোল্যাকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আমিরুলের ছোট ভাই আব্দুল মোল্যা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করেন। পরে মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যা মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের বাড়িতে কোনো হামলা হয়নি। বরং সালামত বিশ্বাস, মোসলেম বিশ্বাস, আবুল বিশ্বাস, হাসান বিশ্বাসসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন—এমন কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও তাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আব্দুল মোল্যার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে