রাজধানীতে সবজির দাম বৃদ্ধি, বাড়ছে মরিচের দামও
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬ ৪:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সারা দেশে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে পানি জমে কাঁচাবাজারের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ, বেগুন, শশাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে চাল ও ব্রয়লার মুরগির দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পেঁয়াজ ও ডিমের দামে সামান্য স্বস্তি মিলেছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও ও নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজিবাহী ট্রাক রাজধানীতে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে।
এ ছাড়া ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বেড়েছে। যদিও ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রকৃত সংকটের পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।
সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবির সর্বশেষ বাজারদরের তথ্যেও চাল, ব্রয়লার মুরগি, বেগুন ও কাঁচামরিচসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে।
বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। করলার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ও ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শশা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
লাউ, যা এক সপ্তাহ আগেও ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে পেঁপের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য দৈনন্দিন বাজার করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
সবজির পাশাপাশি দেশি রসুনের দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। তবে পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায়।
চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সরু চাল (নাজির বা মিনিকেট) বর্তমানে প্রতি কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মোটা চাল (স্বর্ণা বা চায়না ইরি) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। তবে মাঝারি মানের পাইজাম বা লতা চালের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
প্রোটিনের অন্যতম সাশ্রয়ী উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম রয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টির কারণে খামার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
অন্যদিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ফার্মের বাদামি ডিমের প্রতি হালির দাম প্রায় ৫ টাকা কমে বর্তমানে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে