হাতিয়ায় জোয়ারের পানি ও ভারী বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে মানুষ
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ ৩:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বসতঘর, ফসলের মাঠ এবং মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা কয়েকদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি। দুইয়ের প্রভাবে হাতিয়ার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।
মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন নিঝুম দ্বীপসহ দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর ও মৌলভীর চরের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। এতে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে অনেক পরিবারে। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ কাজ হারিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, আমনের বীজতলা ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসনের ১০টি বিশেষ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকার প্রায় এক হাজার মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের এই ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
১২৭ বার পড়া হয়েছে