‘স্যার’ সম্বোধন বিতর্ক: চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে হাকিমপুরে মানববন্ধন
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৬:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দিনাজপুরের হাকিমপুরে সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ সম্বোধন করা নিয়ে বিতর্কের জেরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা সেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরা। এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নার্সরা নিজেদের ‘দোষ’ ঢাকতে এক অভিনব মানববন্ধনের আয়োজন করেন। বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচির কারণে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের কার্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে যান একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি সামিউল ইসলাম আরিফ। সে সময় তথ্য ও বক্তব্য নেওয়ার একপর্যায়ে ওই সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এ সময় ইউএনওর সমমর্যাদার দোহাই দিয়ে তিনি অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এই ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। যদিও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তিনি ঢাকায় থাকায় এই কর্মসূচির ব্যাপারে কিছুই জানতেন না।
এদিকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে এমন কর্মসূচির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। দিনাজপুর সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে মানববন্ধন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই ঘটনার দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার সরকারি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কে কাকে কীভাবে সম্বোধন করবে তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। তবে হাসপাতাল বন্ধ রেখে মানববন্ধনের বিষয়ে তাকে আগে থেকে কেউ অবহিত করেনি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
১১৬ বার পড়া হয়েছে