সর্বশেষ

সারাদেশ

৬ মাসে নওগাঁর সড়কে প্রাণ গেল অন্তত ৩০ জনের

মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ
মামুনুর রশীদ বাবু, নওগাঁ

বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ৮:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও পথচারী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর কিছুদিন তৎপরতা দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগের অভাবে একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

সড়ক দুর্ঘটনা

জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন সড়কে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার এসব দুর্ঘটনায় বহু পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে দ্রুতগতির ট্রাক, ড্রাম ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা বা চার্জারভ্যানের সংঘর্ষে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

বছরের শুরুতেই ৩১ জানুয়ারি মহাদেবপুর উপজেলার পাটকাঠি এলাকায় বালুবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক একটি অটোচার্জারভ্যানকে চাপা দিলে পাঁচজন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এরপর ১১ মার্চ নওগাঁ–সান্তাহার বাইপাস সড়কের খলিশাকুড়ি এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক দম্পতির মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল এবং অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।

মে মাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়ে। পত্নীতলা, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় কয়েকজন প্রাণ হারান। বদলগাছীতে এক সহকারী শিক্ষিকার মৃত্যু এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি করে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ২৫ মে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায়। রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হন। নিহতদের অধিকাংশই নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা জেলার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কোথাও সন্তান হারিয়েছে বাবাকে, কোথাও বৃদ্ধ মা–বাবা হারিয়েছেন তাঁদের একমাত্র ছেলেকে। আবার অনেক পরিবারে স্বামীকে হারিয়ে সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়েছে স্ত্রীর ওপর। ফলে দুর্ঘটনার প্রভাব শুধু প্রাণহানিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বহু পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের নজরদারি কিছুদিন জোরদার হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যায়। ফলে একই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থায়ী পরিবর্তন দেখা যায় না। তাঁদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে কার্যকর তদারকি, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী ও পথচারী—সবার সচেতনতা জরুরি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সরকারি পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান জানান, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ বা আইনি প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গতিনিয়ন্ত্রণ, দক্ষ চালক নিশ্চিত করা, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন