দিনাজপুরে ৩ গ্রামে 'পরিকল্পিত' আগুন: ১৪টি খড়ের গাদা পুড়ে ছাই, দিশেহারা কৃষকরা
সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে তিনটি গ্রামে একযোগে ১৪টি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিকল্পিত এই অগ্নিসংযোগের ফলে প্রায় ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পুলিশ জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করেছে।
শনিবার রাত ১১টা থেকে শুরু করে রোববার ভোর ৫টা পর্যন্ত উপজেলার ৩ নম্বর আলিহাট ইউনিয়নের বাওনা, ইটাই ও বাঁশমুড়ি গ্রামে এই পৃথক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, একের পর এক খড়ের গাদায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হিলি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন বাওনা গ্রামের বাসিন্দা শফিউল ইসলাম। তিনি জানান, রাতে ঘরে বসে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করার সময় হঠাৎ বাইরে চিৎকার শুনতে পান। বাইরে এসে দেখতে পান তার ১০ বিঘা জমির খড় দাউদাউ করে পুড়ছে। তার দাবি, শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে কেউ এই নাশকতা ঘটিয়েছে।
একই এলাকার কৃষক রহমত আলী চোখের জল ফেলে বলেন, 'অন্যের বাড়ির আগুন নেভাতে সাহায্য করতে গিয়ে ফিরে দেখি আমার নিজের খড়ের গাদাও পুড়ছে। ৬ বিঘা জমির এই খড় দিয়ে গরুর খাবার ও জ্বালানির ব্যবস্থা করতাম। কোনো শত্রুতা ছাড়া এমন ক্ষতি কেন করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।'
হিলি ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন ইনচার্জ সাজেদুর ইসলাম জানান, তারা খবর পাওয়া মাত্রই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। রাতের মধ্যে নয়টি খড়ের স্তূপের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং বাকিগুলো স্থানীয়রা নেভায়। প্রথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি কোনো স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত নাশকতা বলেই মনে হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ছদ্মবেশে তদন্ত শুরু করেছে।
১৫৮ বার পড়া হয়েছে