কুষ্টিয়ায় চাঞ্চল্যকর পীর হত্যা মামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ দুই আসামি কারাগারে
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বহুল আলোচিত পীর আব্দুর রহমান শামীম হত্যা মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ইসলামী আন্দোলনের এক নেতাসহ দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা নামঞ্জুর করে এই নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ এবং দৌলতপুর উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আসাদুজ্জামান আজ দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এর আগে তাঁরা এই হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁরা নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করলে বিচারক মো. এনায়েত কবির সরকার আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার একটি দরবারে অতর্কিত হামলা চালায় একদল উত্তেজিত জনতা। হামলাকারীরা দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে। একপর্যায়ে দরবারের পীর আব্দুর রহমান শামীমকে তাঁর কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতিসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, পীর হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে দুই দিনের এবং বিপ্লব হোসেন ও আলিফ ইসলামকে একদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে