সর্বশেষ

সারাদেশ

মোংলায় কুরুচিপূর্ণ টিকটক কনটেন্টে উদ্বেগ, সমাজ বাঁচাতে দ্রুত ব্যবস্থার আহ্বান  

রেজা মাসুদ, মোংলা
রেজা মাসুদ, মোংলা

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ৯:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মোংলা দীর্ঘদিন ধরেই একটি শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও ঐতিহ্যবাহী শহর হিসেবে পরিচিত। এ শহরের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধের এক দৃঢ় বন্ধন বিদ্যমান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ‘টিকটক’-এর অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে শহরের সেই স্বাভাবিক সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
টিকটক

স্থানীয়দের মতে, কিছু অসচেতন ব্যবহারকারীর অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্ট প্রকাশ ও অনুকরণপ্রবণ আচরণের কারণে সামাজিক শৃঙ্খলা ও পারিবারিক মূল্যবোধে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ফলে মোংলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সৌন্দর্য কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি মোংলা এলাকার এক নারী টিকটক ব্যবহারকারীর কিছু কর্মকাণ্ড ও সামাজিক মাধ্যমে তার আচরণ সচেতন মহলের নজরে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে।

মোংলা শহর

স্থানীয় সূত্র ও সচেতন মহলের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর পারিবারিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন সম্পর্কে যুক্ত হন বলে জানা যায়। অর্থাৎ নয় বছরের সংসার জীবনে এক কন্যা সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার প্রথম স্বামী ও কন্যা শিশুকে রেখে তিন সন্তানের এক জনককে (যিনি বর্তমানে প্রবাসী) বিয়ে করেন। তবে এসব ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হলেও, মূল বিতর্কের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে তার টিকটক কনটেন্ট ও অনলাইন আচরণ।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে এমন কিছু ভিডিও প্রকাশ করছেন, যেগুলোকে অনেকে অশালীন ও উস্কানিমূলক বলে মনে করছেন। পাশাপাশি, তার ভিডিওতে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ও স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মোংলা অঞ্চলের সামাজিক পরিবেশ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর মোবাইল-নির্ভর কনটেন্টের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনৈতিক ও অশালীন ভাষা বা কনটেন্ট অনলাইনে সহজলভ্যভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তা কিশোর-কিশোরীসহ অনেকের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমনকি সুস্থ ও সাজানো সংসারে আগুন লাগার উপক্রমও হতে পারে।

অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, মোংলার মতো ঐতিহ্যবাহী শহরের তরুণরা বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল স্ক্রিনে নিমগ্ন থাকছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা দিন-রাত মোবাইল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকে। এর ফলে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের কনটেন্টের সংস্পর্শে আসছে, যা পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে তাদের ধারণা।

এছাড়া স্থানীয়রা আরও মনে করছেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নামের সঙ্গে এমন ধরনের কনটেন্ট বা আচরণ জড়িয়ে পড়লে তা পুরো এলাকার সামাজিক মর্যাদার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের অনলাইন কার্যক্রমের প্রতি নজর রাখেন- বিশেষ করে তারা কোন ধরনের কনটেন্ট দেখছে এবং কার সাথে যোগাযোগ করছে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে আপত্তিকর বা অশালীন কনটেন্ট চিহ্নিত হলে তা যথাযথ নিয়ম মেনে 'Report' (রিপোর্ট) করার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ডিজিটাল পরিবেশ আরও নিরাপদ রাখা যায়।

স্থানীয় প্রশাসন ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলা হয়েছে, অনলাইনে সমাজবিরোধী ও ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানো ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। নয়তো আজ যদি সমাজ চুপ থাকে, তবে কাল এই অসামাজিকতা সভ্য ঘরের দ্বারেও পৌঁছাতে পারে।

মোংলার সামাজিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা মনে করেন, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুস্থ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

৫১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন