৪ দিন পর গ্যাস সরবরাহ হওয়ায় সচল হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৮:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চার দিন বন্ধ থাকার পর হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় একে একে চালু হচ্ছে কারখানা। কর্মস্থলে ফিরেছেন শ্রমিকেরা। এতে শিল্পাঞ্চলে আবারও কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে শনিবার সকাল পর্যন্ত চাপ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পর বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, শুক্রবার রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আর কোনো সমস্যা না হলে শনিবারের মধ্যেই সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তাঁদের কারখানায় গ্যাস আসতে শুরু করে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কারখানা চালু করা হয়। গ্যাস সরবরাহ ভালো হওয়ার বিষয়ে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাঁদের চিঠি দিয়েও জানিয়েছে।
স্কয়ার ডেনিমের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন বলেন, রাত থেকেই কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি পাওয়া যায়। গ্যাসের চাপ স্থিতিশীল হওয়ার পর জেনারেটর চালু করে কারখানার উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। কারখানা চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে।
গ্যাসের অভাবে কয়েক দিন কারখানা বন্ধ থাকায় চাকরি নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন শ্রমিকেরা। শনিবার কাজে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাঁরা। শ্রমিকদের ভাষ্য, কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তাঁদের চাকরি ও আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতো। পরিবারের খরচ ও সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় চালানোও কঠিন হয়ে পড়ত।
গত ২২ জুলাই থেকে হবিগঞ্জে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকট তীব্র হয়। প্রায় ২০ দিন সংকট চলার পরও অল্প পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ ছিল। তবে বুধবার ১২ আগস্ট থেকে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার অধিকাংশের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানাগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে গ্যাসের সংকটের কারণে কোনো কোম্পানি শ্রমিকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছিল। শনিবার গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় তাঁরা কর্মস্থলে ফিরেছেন। এতে দীর্ঘ কয়েক দিন পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে।
১১৫ বার পড়া হয়েছে