কুমিল্লায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ-সংকট, ব্যাহত জীবন
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ-সংকটে কুমিল্লার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পিক আওয়ারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিশেষ করে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ের মানুষের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
কুমিল্লায় কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের ভোগান্তি। দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জেলার বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিক আওয়ারে কুমিল্লা জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।
এই ঘাটতি সামাল দিতে শিডিউল অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। ফলে কখন বিদ্যুৎ আসবে বা যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সকালে কিছু সময় বিদ্যুৎ থাকলেও দুপুর ও বিকেলের দিকে প্রায়ই চলে যায়। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে এক থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। রাতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, দিনে চার-পাঁচবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোনো কোনো সময় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরও তা ফিরে আসছে না। এতে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ-সংকটে গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের ভোগান্তি তুলনামূলক বেশি। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে অনেক পরিবারের জন্য। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে কেউ কেউ শিশুদের নিয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন।
এক মা বলেন, গরমে শিশুরা খুব কষ্ট পাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরের ভেতরে থাকা কঠিন হয়ে যায়। তাই সন্তানদের নিয়ে বাইরে সময় কাটাতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ-সংকটের প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ছোট ব্যবসায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পানি সরবরাহ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, তীব্র দাবদাহের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতি দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি করা না গেলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, তীব্র গরমের এই সময়ে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে