আস্ত খাসি নয়, ১০ গুণ বেশি কাবিন চাওয়ায় বিয়ে ভেঙেছে: বরের পাল্টা দাবি
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আস্ত খাসির জন্য বিয়ে ভাঙার খবর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টির পর এবার পাল্টা দাবি করেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন, আস্ত খাসির জন্য নয়, বরং পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি অর্থ দাবি করায় এই বিয়ে ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি বিয়েতে আস্ত খাসি না থাকায় বর চলে গেছেন বলে গত সোমবার গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিষয়টিকে বানোয়াট দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন বর জুনায়েদ মিয়া। কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের এই জাপানপ্রবাসী যুবকের দাবি, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে।
জুনায়েদ মিয়া ফেসবুকে লিখেছেন, গতকাল খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ দেনমোহরের নির্ধারিত অঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। তিনি ও তার পরিবার এই অযৌক্তিক অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কনেপক্ষের লোকজন তাদের আসর থেকে বের করে দেন। এমনকি উপহার সামগ্রীও ফেরত পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।
ফেসবুক পোস্টে প্রবাসী বর আরও অভিযোগ করেছেন যে, কনের সাথে তাকে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। রাতের বেলা ফোনে হুমকি দিয়ে তাকে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় এবং রাজি না হওয়ায় জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। কনেপক্ষ অর্থ দিয়ে কিছু ভুয়া সাংবাদিক ভাড়া করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিয়ের দিন উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই ফুল ও গেটের সাজসজ্জা নিয়ে বরপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করে। এরপর খাওয়ার টেবিলে বরপক্ষের বিশেষ আয়োজন ‘খদর’-এ আস্ত খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। খাসি না পেলে তিনি ফিরবেন না বলে কনেপক্ষকে জানান।
কনের বাবা শফিক মিয়া জানিয়েছেন, বিয়েতে আস্ত খাসি দেওয়ার কোনো পূর্ব শর্ত ছিল না। কনেপক্ষকে না জানিয়েই এমন দাবি তোলা হয়েছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বরকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তবে বরের ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর কনেপক্ষের নতুন কোনো মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
১১৯ বার পড়া হয়েছে