দুই প্রার্থীই চূড়ান্ত, ২০ আগস্ট সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : ইসি
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়েছে। বৈধ ঘোষিত দুই প্রার্থীর কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় আগামী ২০ আগস্ট সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় মঙ্গলবার বিকেল চারটায় শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে তাঁরা দুজনই এখন চূড়ান্ত প্রার্থী।
মঙ্গলবার বিকেল চারটার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, আগামী ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে।
ইসি সচিব জানান, ভোটের দিন বেলা দুইটায় সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচনী কর্মকর্তা সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবেন। এরপর সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ভোট দেবেন।
ভোটের জন্য ব্যালট পেপার সাদা রঙের হবে এবং এতে কালো রঙে লেখা থাকবে। ভোটারকে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার গ্রহণ করতে হবে। এরপর প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ব্যালটটি নির্দিষ্ট বাক্সে ফেলতে হবে।
ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। এরপর ভোট গণনা করা হবে। বৈধ ভোটের মধ্যে যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। পরে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সচিবের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার ৩৪৯ জন। তাঁরা সবাই জাতীয় সংসদের সদস্য। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন এবং জামায়াতের ৭৭ জন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণপরিষদ, খেলাফত মজলিশ ও জাগপার একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। এ বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং একই দিন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১৬ আগস্ট বাছাই শেষে দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় এবারের নির্বাচন ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরী ও মকবুল হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
সে সময় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মকবুল হোসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ান। ফলে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও বদরুল হায়দার চৌধুরীর মধ্যে ভোট হয়।
১৯৯১ সালের সেই নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩৩০ জন। আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করেছিল। জামায়াত ও সিপিবিসহ কয়েকটি দল ভোটদানে বিরত ছিল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। এবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও প্রয়োগ নিয়ে রিট আবেদন করা হয়। তবে ভোটের দুই দিন আগে মঙ্গলবার আদালত সেই রিট খারিজ করে দিয়েছেন।
এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান হুইপ। ফলে ২০ আগস্টের ভোটে সংসদ সদস্যদের ভোটের ধরন নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে