ছেলের মরদেহ দেখে শোকে বাবারও মৃত্যু, গোপালগঞ্জে শোকের ছায়া
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এনজিওর ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পেরে বিষপানে এক যুবকের আত্মহত্যার পর তার মরদেহ দেখে শোকে পাথর হয়ে মারা গেছেন বৃদ্ধ বাবাও। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর একই সঙ্গে বাবা ও ছেলের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের লোহাচুড়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন কাজী (৩২) বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ে সেই ঋণের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে তীব্র মানসিক দুশ্চিন্তায় ভোগেন তিনি। এর ওপর এক ঋণদানকারী কর্মকর্তার কটু কথায় চরম ক্ষুব্ধ ও অতিষ্ঠ হয়ে গত রোববার সকালে বিষপান করেন লিটন।
বিষপানের বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লিটন।
হাসপাতাল থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুকসুদপুর থানা-পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় লিটনের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর রাত ৮টার দিকে মরদেহ যখন বাড়িতে এসে পৌঁছায়, তখন বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। এ সময় একমাত্র ছেলের নিথর দেহ দেখে শোকে ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ পিতা মান্নান কাজী (৬০)।
ছেলের অকাল মৃত্যুর শোকে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মান্নান কাজী। বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে ছটফট করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো লোহাচুড়া গ্রাম স্তব্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বাবা ও ছেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে রাতেই লোহাচুড়া গ্রামে বাবা ও ছেলের জানাজার নামাজ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুটি কবরে তাদের dদাফন করা হয়। মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাহিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
১০৭ বার পড়া হয়েছে