সর্বশেষ

সারাদেশ

তিস্তার ভাঙনে বিলীন বসতভিটা, খোলা আকাশের নিচে অসহায় নদীপাড়ের মানুষ

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একাধিক পরিবারের বসতভিটা। চলমান নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙনে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পরিবার এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে তিস্তা নদীর ভাঙন হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পরিবার নদীভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারা যেকোনো সময় ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শত কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ৪০টি প্যাকেজের নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। সময়মতো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় নদীভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহেরুল ইসলাম মাওলানা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি এবং কাজের ধীরগতির কারণে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লেবার সর্দারের মাধ্যমে কাজ পরিচালিত হওয়ায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং সম্পন্ন না হলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে তাদের শেষ সম্বলটুকু হয়তো রক্ষা করা সম্ভব হতো।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব মজিদুল ইসলাম জানান, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে একটি প্যাকেজের কাজের অনুমোদনের আশ্বাস দিয়েছে। তবে তিনি দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, রামহরি এলাকায় আগে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, কিন্তু সেটি টেকসই হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, প্রতিবছরের মতো অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন থেকে তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি রক্ষা করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন