সর্বশেষ

সারাদেশ

একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক দুই সহোদর, অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, শরীয়তপুর
স্টাফ রিপোর্টার, শরীয়তপুর

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ৪:২৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া সমিতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন আপন দুই ভাই। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশ। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলার অভাবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার চিতলিয়া সমিতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. হারুন অর রশিদ। একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন তাঁর আপন ভাই বজলুর রশিদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে দুই সহোদরের অবস্থানের কারণে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। এমনকি উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিভিন্ন পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায় এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক কর্মস্থলে উপস্থিত নেই। তাঁর কক্ষে সহকারী প্রধান শিক্ষক বজলুর রশিদ অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব বন্ধ পাওয়া যায় এবং কয়েকজন শিক্ষককে আড্ডায় ব্যস্ত দেখা যায়। সার্বিকভাবে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ অনুপস্থিত বলে প্রতীয়মান হয়।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাষ্য, প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু শিক্ষক নিয়মিত ও সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে বলেও তারা জানান।

বিদ্যালয়ের সামনে কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে, যারা বর্তমানে খোয়াজপুর টেকেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তারা জানায়, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ ও নিয়মিত পাঠদানের কারণে তারা প্রতিদিন অটোরিকশায় করে ওই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি প্রাইভেট কোচিং না করলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অসুবিধার মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়েও অতীতে একাধিকবার বিরোধ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক বজলুর রশিদ বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের কাজে জেলা শহরে ছিলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক অফিস সহকারীর কাছে ছুটির আবেদনপত্র রেখে ঢাকায় গেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টি একটি অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন। প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল তাঁর কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের ছুটির আবেদন যথাযথভাবে জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ লিখিতভাবে পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন