সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, বাবর-আরিফুলসহ খালাস ৯
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ২:০৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আজিজ নাঈম নামের এক আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরীসহ বাকি ৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আবুল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মামলার ১০ আসামির মধ্যে কেবল আজিজ নাঈমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী এবং সাবেক হুইপ জি কে গৌছসহ অবশিষ্ট ৯ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর খালাস পাওয়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় তাঁদের জড়ানো হয়েছিল। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে সত্যের জয় ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুভূতি ব্যক্ত করে লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গৌছ জানান, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর অবশেষে তাঁরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের পরিবার এই রায় প্রত্যাখান করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছে। কারাফটকে নিয়ে যাওয়ার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও রায়ের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এক রাজনৈতিক জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ২৯ জন। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
১২৮ বার পড়া হয়েছে