পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন: উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ সংসদে
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ ৮:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম ও পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ দশকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাঙ্ক্ষিত আর্থসামাজিক উন্নয়ন এখনো অর্জিত হয়নি।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি। তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।
তিনি বলেন, আয় থাকলেই করের প্রশ্ন আসে—কিন্তু পার্বত্যাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এখনো ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহে সংগ্রাম করছে। বিশেষ করে বান্দরবানের চিম্বুক এলাকার ম্রো জনগোষ্ঠীর উদাহরণ টেনে তিনি জানান, কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে বা মাথায় বহন করে নিতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় অংশ এখনো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেই। মৎস্য, কাঠ, পরিবহন ও ঠিকাদারি খাতে পাহাড়ি ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ায় অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
তিনি পার্বত্য এলাকার পানীয় জলের সংকট, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির বিষয়গুলোও সংসদে তুলে ধরেন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বক্তব্যে তিনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এগুলোকে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বোর্ড তার মূল উদ্দেশ্য পূরণে পুরোপুরি সফল হয়নি।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটে পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে