সর্বশেষ

জাতীয়

আবাসন খাতে গভীর সংকট: করের চাপ ও নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধিতে স্থবির ফ্ল্যাট বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ ৭:১৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দেশের আবাসন খাত দীর্ঘমেয়াদি মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে, আর নতুন বাজেট প্রস্তাব ও জ্বালানি-উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

নির্মানাধীন ভবন

দেশের আবাসন খাতে চলমান মন্দাভাব দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ফ্ল্যাট বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উদ্যোক্তারা আশা করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াবে। তবে বৈশ্বিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

এরই মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করের বোঝা এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আবাসন খাতকে আরও চাপে ফেলেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আবাসন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আবাসনের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৫০ লাখ মানুষ

রাজধানীর বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্প পরিচালনাকারী ঐশী প্রপার্টিজের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে কয়েকটি প্রকল্পের নির্মাণ শেষ হলেও গত পাঁচ মাসে একটি ফ্ল্যাটও বিক্রি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আইয়ূব আলী জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজার প্রায় স্থবির।

অন্যদিকে শেলটেকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাদের বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। তার মতে, নতুন করের ফলে ফ্ল্যাটের দাম বাড়লে নিবন্ধন কমে যাবে, যা সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্মাণসামগ্রীর বাজারেও চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে রড উৎপাদনের কাঁচামাল ও ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে প্রতি টনে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও করের প্রভাবে প্রতি টন রড উৎপাদন খরচ ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অসংখ্য ফ্ল্যাট বাড়ি

বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের ওপর ভিত্তি করে রডের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করা হবে, যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাকেই বহন করতে হবে। এতে ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুটে প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।

এদিকে নতুন বাজেটে জমির মালিকদের ওপরও বড় ধরনের কর চাপানো হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্যান্য সুবিধার ওপর ১৫ শতাংশ ‘ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স’ দিতে হবে।

রিহ্যাব নেতাদের উদাহরণ অনুযায়ী, একটি প্রকল্পে জমির মালিক যদি ১২টি ফ্ল্যাট পান, যার বাজারমূল্য ১২ কোটি টাকা, তাহলে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। তাদের মতে, এই বাড়তি ব্যয় আবাসন খাতকে আরও সংকটে ফেলবে এবং মধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন