দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ৪:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গেছেন তারেক রহমান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া এসে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দেশটিতে পৌঁছে তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে বিদেশি নেতার ফোন তিনি পেয়েছিলেন, তিনি ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সেই ফোনালাপে অভিনন্দনের পাশাপাশি তাকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী করেছিল। একইভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের সফরও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি যৌথ কমিশন বৈঠক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের পরামর্শ প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় করার বিষয়ে একমত হন দুই নেতা।
তারেক রহমান জানান, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের শক্তিশালী সমর্থন পেয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করা, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি মালয়েশিয়ার কাছে তুলে ধরেন। দুই দেশই স্বচ্ছ, ন্যায্য ও কম ব্যয়সম্পন্ন শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহও তুলে ধরেন।
দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।
সফরকালে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময়কে স্বাগত জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে, যা উভয় দেশের উন্নয়ন, আঞ্চলিক শান্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে