উন্নয়নের ছোঁয়া নেই মাসকান্দা বাস টার্মিনালে, দুর্ভোগে যাত্রীরা
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ৫:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন কেন্দ্র মাসকান্দা বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এখান থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার ঘাটতির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। এ অবস্থায় টার্মিনাল আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ময়মনসিংহ শহরের মাসকান্দা বাস টার্মিনালে আসেন। বিভাগীয় শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে নিয়মিত বাস চলাচল করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে বাসগুলো গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে। অনেক বাসকে টার্মিনালের বাইরে সড়কের ওপর পার্কিং করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
টার্মিনালের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির সময় কাদা ও পানি জমে থাকে। ফলে যাত্রীদের কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। টার্মিনালের কিছু জায়গা দখল করে বিভিন্ন দোকান ও ওয়ার্কশপ গড়ে ওঠায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে মূল অবকাঠামো।
প্রতিদিন ভোর থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এই টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে যায়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার যাত্রীচাপ বেড়ে যায়। এ সময় টিকিট কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বাসের জন্য অপেক্ষার সময় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ।
ঢাকাগামী যাত্রী সিরাজ উদ্দিন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালে পানি জমে যায়। কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়, এতে পোশাক ও জুতা নষ্ট হয়। তিনি টার্মিনালের ভেতরের অংশে টেকসই আরসিসি ঢালাইয়ের দাবি জানান।
আরেক যাত্রী আশরাফুল আলম বলেন, ভোরবেলায় বাসের অপেক্ষা করতে গিয়ে পর্যাপ্ত আলোর অভাব ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়তে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
যাত্রী মুনমুন সরকার বলেন, শিশু সন্তান নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। টয়লেট ব্যবহারের জন্য টাকা দিতে হলেও সেগুলোর পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক নয়। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট ও বিশ্রামাগারের দাবিও জানান তিনি।
পরিবহন শ্রমিক মান্নান বলেন, টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক সময় সড়কের ওপর বাস পার্কিং করতে হয়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, অতীতে কয়েক দফা উন্নয়নকাজ হলেও নিম্নমানের নির্মাণের কারণে সেগুলোর সুফল পাওয়া যায়নি। জলাবদ্ধতা নিরসন, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, টার্মিনালের দখলকৃত জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের জন্য নারী ও পুরুষের পৃথক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিশ্রামাগার, উন্নত টয়লেট, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ উন্নয়নের কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, টার্মিনালের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে প্রবেশপথ থেকে মূল ভবন পর্যন্ত একটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বসার ব্যবস্থা ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে