গোপালগঞ্জে ঋণের চাপ সইতে না পেরে প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যা
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ঋণের বোঝা সইতে না পেরে নিজের জীবনাবসান ঘটিয়েছেন এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। রবিবার সকালে নিজ বাবা-মায়ের সমাধির পাশে একটি গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিক্ষকের নাম বিদ্যুৎ কান্তি রায় (৫৬)। তিনি উপজেলার পাটগাতি মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি টুঙ্গিপাড়ার দাড়িয়ারকুল গ্রামের গঙ্গা প্রসাদ রায়ের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান তিনি। এরপর রাতের কোনো এক সময়ে সবার অজান্তেই তিনি ঘর থেকে বের হয়ে যান। আজ ভোরে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হয়ে বাড়ির পাশে পিতা-মাতার সমাধির নিকটবর্তী একটি কামরাঙা গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
নিহতের স্ত্রী দীপা রায় জানান, তাঁর স্বামী বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নেওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে চরম মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। গভীর রাতে কখন তিনি বিছানা থেকে উঠে বাইরে চলে যান, তা কেউ টের পায়নি। ঋণের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি এমন পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ কান্তি রায় শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও তাঁর বেশ কিছু আর্থিক দেনা ছিল। দেনার চাপ ও মানসিক অবসাদ থেকেই সম্ভবত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে