শাহজালাল মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগে সিসি ক্যামেরা: আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ৪:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার বিকেলে নতুন এই নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়।
সিলেটের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার-এর দান সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগগুলোতে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা চালু করা হয়। এর মাধ্যমে পুরো দান সংগ্রহ প্রক্রিয়া এখন ডিজিটাল নজরদারির আওতায় এসেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এবার সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সিসি ক্যামেরা যুক্ত করা হলো।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দানের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবহারের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম ও অস্পষ্টতা দূর হবে এবং মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আসবে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর কোনো সরাসরি উত্তরাধিকার না থাকায় মাজারের দান জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। তাই এই অর্থের যথাযথ ব্যবহারের জন্য উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দানের কোনো অর্থ সরকার গ্রহণ করবে না। বরং তা মাজার, সংলগ্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে খাদেম ও মাজার প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে মাজার সংশ্লিষ্ট ও কিছু খাদেমের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে ঐতিহ্যের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিবাদও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন জেলা প্রশাসক মাজার পরিদর্শনে গিয়ে সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকাতেও মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়।
১২৫ বার পড়া হয়েছে