কুড়িগ্রামে এক বাংলাদেশি শিশুকে নিয়ে দিনভর পুশইন-পুশব্যাক, শেষে ফেরত
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর-নাজিরহাট সীমান্তে এক বাংলাদেশি শিশুকে ঘিরে দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক দফা যোগাযোগ ও রাতের পতাকা বৈঠকের পর ৯ বছর বয়সী শিশুটিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর-নাজিরহাট সীমান্তে এক বাংলাদেশি শিশুকে ঘিরে শনিবার দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাতের দিকে বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ফেরত পাওয়া শিশুটির নাম জয়নাব (৯)। সে মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মধ্যকাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩-এর সাব-পিলার ৩–এর কাছাকাছি এলাকায় বিএসএফ একটি কন্যাশিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিষয়টি পুশইনের ঘটনা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে দুই বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ চলতে থাকে।
এদিকে শিশুটির মা নাজমা বেগম মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন, ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর বিএসএফের হাতে একটি শিশু আটক হয়েছে। পরে তিনি নিশ্চিত হন, আটক শিশুটি তাঁরই মেয়ে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় খাবার নিয়ে অভিমান করে জয়নাব। পরে দুপুরে বাড়িতে ফিরে খাবার চাইলে পরিবারের পক্ষ থেকে স্কুল শেষে খেতে বলা হয়। এতে অভিমান করে সে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় চলে যায়। সেখানে বিএসএফ তাকে আটক করে।
শিশুটি বাংলাদেশের নাগরিক—এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করে। শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর ৩ এস এলাকার কাছে দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পতাকা বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বিজিবি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে বিএসএফ শিশুটিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়।
পতাকা বৈঠকে উপস্থিত কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, শিশুটিকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে বিজিবির দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১১৬ বার পড়া হয়েছে