দৌলতপুর সীমান্তে পুশইনের ১২ জন: পরিচয় যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত নেবে বিএসএফ
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬ ৮:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এ ঘটনার পর বিজিবির আহ্বানে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পতাকা বৈঠকে বসে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবি পুশইন চেষ্টার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং সীমান্তের কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত ১২ জনকে দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। জবাবে বিএসএফ জানায়, ওই ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করবে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে দৌলতপুর সীমান্তের আরও দুটি পয়েন্ট দিয়ে নতুন করে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তে চারজন এবং মহিষকুন্ডি ইউনিয়নের জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আরও আটজনকে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির টহল ও সতর্ক অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরেও প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার এলাকায় একইভাবে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্কতায় তারা প্রবেশ করতে পারেনি।
ঘটনার পরপরই বিজিবি বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। যদিও শুক্রবার বিকেলে নির্ধারিত সময় থাকলেও বিএসএফ উপস্থিত হয়নি। পরে শনিবার সকালে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা এবং প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার অংশ নেন। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রানীনগর বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার সুনীল কুমার যাদব।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে শুক্রবার রাতেও দুটি স্থানে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, তবে বিজিবি ও স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে