রাজশাহীতে দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন, অস্ত্র ও লুণ্ঠিত অর্থসহ দুইজন গ্রেফতার
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬ ১:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীতে প্রায় দুই মাস আগে সংঘটিত একটি আলোচিত দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে লুণ্ঠিত অর্থ ও একটি অস্ত্রসদৃশ বস্তুসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রাজশাহী মহানগর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ এপ্রিল পাবনা ডেইরি ফার্ম থেকে ২ হাজার লিটার শীতলীকৃত তরল দুধ নিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসে। দুধ আনলোড শেষে সেলস সেন্টারের ম্যানেজার ডেইরি ফার্মের হেড অফিসে জমা দেওয়ার জন্য চালক ও কর্মচারীদের কাছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে দুপুর আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় আমচত্বর–বেলপুকুর মহাসড়কে পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলে আসা তিনজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এ সময় তারা পিকআপের জানালার কাচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার দিনই ভুক্তভোগী মাসুদ রানা বেলপুকুর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে দীর্ঘদিনেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় মামলাটি এক পর্যায়ে ‘ক্লুলেস’ হয়ে পড়ে।
পরে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. হাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মূল পরিকল্পনাকারী মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮) গ্রেফতার হন।
গ্রেফতারের সময় মিলনের কাছ থেকে দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি পিস্তল সদৃশ বস্তু এবং লুণ্ঠিত ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে ডাবলুর কাছ থেকে আরও ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
ডিবি জানায়, গ্রেফতারকৃত মিলনের বিরুদ্ধে পূর্বে ৯টি এবং ডাবলুর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে দস্যুতা, ছিনতাইসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আবু সাদাত মিলন ওরফে ‘মুরগি মিলন’-এর বিরুদ্ধে মাদক মামলা, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও প্রতারণাসহ বহু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে এবং রিমান্ড আবেদন করা হবে।
প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্লুলেস এই মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
১৩২ বার পড়া হয়েছে