ময়মনসিংহ সদর সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেগঘন ব্যতিক্রমধর্মী বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ ১:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিদায়ী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাকসুদা খাতুনকে সংবর্ধনা ও নবযোগদানকারী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সহকর্মীরা বিদায়ী কর্মকর্তাকে রিকশায় চড়িয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ও সম্মানজনক বিদায় জানান, যা উপস্থিত সকলের মাঝে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করে।
বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদায়ী কর্মকর্তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ম্যাডামের সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি অত্যন্ত সৎ, দক্ষ ও মেধাবী একজন কর্মকর্তা। কর্মক্ষেত্রে তিনি সবসময় আমাদের অভিভাবকের মতো দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়েছেন। আমরা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।”
অপর কর্মচারী রিনা আক্তার বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি মাকসুদা খাতুনের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরে তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজকর্মীরা বলেন, “আজ আমরা একজন দায়িত্বশীল অভিভাবককে বিদায় জানাচ্ছি। তিনি সবসময় আমাদের নিরাপদে রেখেছেন এবং কর্মক্ষেত্রে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তাঁর অবদান আমরা চিরদিন স্মরণে রাখব।”
সভাপতির বক্তব্যে নবযোগদানকারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে বিদায়ী কর্মকর্তার প্রতি সহকর্মীদের আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধা কতটা গভীর। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অফিস পরিচালনা করেছেন। আমি তাঁর গড়ে দেওয়া ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে চাই এবং সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিদায়ী কর্মকর্তা মাকসুদা খাতুন বলেন, “আপনারা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, নতুন কর্মকর্তাকেও একইভাবে সহযোগিতা করবেন। করোনা মহামারি ও বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমি এখানে দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আপনাদের সহযোগিতার কারণেই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে একজন ভালো মানুষ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চাই। কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও আপনাদের প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করব। সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।”
অনুষ্ঠান শেষে সহকর্মীরা অশ্রুসজল চোখে মাকসুদা খাতুনকে রিকশায় তুলে দিয়ে এক স্মরণীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী বিদায় জানান। এই দৃশ্য উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
১৪০ বার পড়া হয়েছে