কুমারখালীর গড়াই সেতু দেড় বছর অন্ধকারে, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গড়াই নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৬৫০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটি বর্তমানে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্ধকারে নিমজ্জিত।
প্রায় দেড় বছর ধরে সেতুর অধিকাংশ সড়কবাতি অকেজো থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ, দর্শনার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নানা ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।
প্রায় ৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গড়াই সেতুটি ২০২৩ সালের জুন মাসে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর কয়েক মাস সেতুর আলোকসজ্জা সচল থাকলেও পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সড়কবাতিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। পরে কিছু বাতি মেরামত করা হলেও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির ঘটনায় পুরো সেতু আবার অন্ধকারে ডুবে যায়।
বর্তমানে সেতুর ৩৬টি সড়কবাতির অধিকাংশই নষ্ট হয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আলো না থাকায় এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ শরীফ বলেন, “সেতুতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দ্রুত বাতিগুলো সচল করা প্রয়োজন।”
আরেক বাসিন্দা সবুজ হোসেন বলেন, “শত কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে আলো না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার পরিচয়।”
ভ্যানচালক রেজাউল ইসলাম জানান, রাতের বেলায় সেতু পারাপারে চরম অসুবিধা হচ্ছে। অন্ধকারের সুযোগে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে।
দর্শনার্থী শিমুল ও পরিতোষ ঘোষ বলেন, নিরাপত্তা ও আলোর অভাবে অনেকেই রাতে সেতু এলাকায় আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর। ঝালমুড়ি বিক্রেতা আলী হোসেন ও শরবত বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম জানান, দর্শনার্থী কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, অন্ধকার পরিবেশ অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সেতুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হলে অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, চুরি হওয়া বৈদ্যুতিক তার প্রতিস্থাপনের জন্য নতুন বরাদ্দ না পাওয়ায় এখনো সড়কবাতি চালু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে সেতুর সব সড়কবাতি মেরামত ও সচল করতে হবে। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
২০৯ বার পড়া হয়েছে